খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকার প্রথম সিঁড়ি সংলগ্ন সড়কে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকের।
নিহতরা হলেন— আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের মল্লিক বাড়ির দুর্গাপদ মল্লিক (৬০) ও তার ছেলে বিধান মল্লিক বাবু (৪০)। বিধান মল্লিক কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবার নিয়ে তারা চট্টগ্রাম মহানগরের ফিশারিঘাট এলাকায় বসবাস করতেন। মঙ্গলবার সকালে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি আনোয়ারার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চট্টগ্রাম শহর থেকে কর্ণফুলীর দিকে যাওয়ার পথে প্রথম সিঁড়ি এলাকায় একটি স্পিড ব্রেকারের কাছে মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেন চালক। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। পরে পিকআপটি সামনে থাকা একটি মাইক্রোবাসেও আঘাত করে।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাবা-ছেলে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে দুর্গাপদ মল্লিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় বিধান মল্লিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকের বলেন, দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত মোটরসাইকেল চালককে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে আনা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই পিকআপ চালক পালিয়ে যান।
খখ/মো মি


