খাসখবর মহামারী ডেস্ক➤ করোনায় টানা ষষ্ঠদিন শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আর শনাক্ত ছাড়িয়েছে ৮ হাজারে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দেশে একদিনে করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) দেশে সর্বোচ্চ ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ হাজার ৭৭৮ জনে।
এর আগে গত ২৭ জুন ১১৯ জন, ২৮ জুন ১০৪ জন, ২৯ জুন ১১২ জন, ৩০ জুন ১১৫ জন ও ১ জুলাই সর্বোচ্চ ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪৮৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৪২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৩৮৫ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ১২টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫০৯ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪২২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫০৯জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪২২ জন। সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৬৬টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১২৮টি, জিন এক্সপার্ট ৪৭টি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ৩৯১টি। এসব ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩০ হাজার ৩৮৫টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ১২টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪টি।
এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের বিবেচনায় মারা যাওয়ার হার ১ দশমিক ৫৯ আর সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১৩২ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ৬৭ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৮১ জন ও মহিলা ৫১ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৩ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৩২ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫ জন, ঢাকায় ৩০ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ২৪ জন করে, সিলেটে ২ জন, রংপুরে ৯ জন, ময়মনসিংহে ৬ ও বরিশালে ২ জন মারা গেছেন।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন তিন হাজার ১৪ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ১১৮ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ১৭৫ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৮৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৯ হাজার ৮৮ জন।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
খখ/মো মি


