খাসখবর বিনোদন ডেস্ক➤ মাদক কাণ্ডে এবার নাম জড়ালো শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান। মুম্বাই থেকে গোয়াগামী বিলাসবহুল ক্রুজে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরিয়ান সহ ১০ জনকে আটক করলো ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো।
মুম্বাইয়ের এই প্রমোদতরীর পার্টিতে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এনসিবি) কর্মকর্তারা। আরিয়ান বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।
এনসিবি সূত্রে খবর, প্রায় ছয় ঘণ্টা জেরার পর আরিয়ান স্বীকার করেছেন। এরপর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, খতিয়ে দেখা হচ্ছে শাহরুখ-পুত্রের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট। তিনি কাদের সঙ্গে কথা বলতেন, যোগাযোগ রাখতেন। কোনো মাদকচক্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত কি না, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। বন্ধুদের বিভিন্ন গ্রুপে কী ধরনের আলোচনা করতেন তিনি, তা-ও এখন নজরে তদন্তকারীদের।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই পার্টিতে ‘ভিভিআইপি’ তালিকায় নাম থাকায় কোনো প্রবেশমূল্য ছাড়াই প্রবেশ করেছিলেন আরিয়ান। তিনি নিজেই নাকি জেরায় স্বীকার করেছেন এ কথা।
আরিয়ানের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ‘নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস’ (এনডিপিএস) আইনে মামলা দায়ের হতে পারে।
জানা গেছে, কর্ডেলিয়া নামে সেই প্রমোদতরীর পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন আরও বেশ কিছু তারকা। কিন্তু এনসিবি যখন হানা দেয়, তখন মাদক সেবন করতে দেখা যায়নি তাদের। আপাতত আরিয়ানের থেকেই এই পার্টি সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন এনসিবি-র আধিকারিকরা।
এদিকে ‘পাঠান’ ছবির একটি গানের কাজের জন্য স্পেনে যাওয়ার কথা ছিল শাহরুখের। ২৩ বছর বয়সী ছেলের বিপদে আপাতত সেই পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন তিনি। ছেলেকে বাঁচাতে নাকি এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন শাহরুখ।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই আইনজীবী সতীশ মানশিণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন শাহরুখ। সতীশের প্রতিনিধিরা পৌঁছে গিয়েছেন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) দফতরে। বয়ান রেকর্ড করার পর গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে।
শাহরুখের ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, ‘শাহরুখ এ বিষয়ে সামনে এসে কোনও কথা বলেন নি। এনসিবি আরিয়ানকে নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেই শাহরুখের আইনি পথে হাঁটার একাধিক রাস্তা খুলে যাবে।’
তিনি আরো জানিয়েছেন, ছেলে আটক হওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত গৌরী। কাজের জন্য বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল তারও। আপাতত শাহরুখের সঙ্গে শহরে থাকবেন গৌরী। দুঃসময়ে ছেলের পাশে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
ওই ক্রুজ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কোকেন, হাশিশ এবং এমডিএমএ’র মতো মাদক। কোথা থেকে বিশাল পরিমাণ মাদক ওই ব্যক্তিদের কাছে এলো, তা খতিয়ে দেখছেন এনসিবি কর্মকর্তারা। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকে মাদক কাণ্ড নিয়ে যথেষ্ট তৎপর এনসিবি।
খখ/মো মি


