খাসখবর বিভাগীয় ডেস্ক➤চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ১ নম্বর আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এসময় বাসা থেকে দুই তরুণীকেও আটক করা হয়। রহস্যজনক বাড়িটিতে অভিযানের সময় বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাত পৌনে ১১টার দিকে গুলশান পিংক সিটির পাশে ১০৭ নং রোডের ২৫-বি বাড়ির এ-১ ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দু’জন নারীকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তার বাসায় আমরা দুজন নারীকে পেয়েছি। তার পরিবার এখানে থাকেন না। দুই নারীর পরিচয় এবং কী উদ্দেশ্যে ছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।’
র্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। ওই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গোপন তথ্যে এই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাসা মিরপুর ডিওএইচএস। কিন্তু এই বাসাটি তিনি আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার করছিলেন। অভিযানে বাসা থেকে ২৩ বোতল মদ, বেশ কিছু বিয়ার, সীসার সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি।
নায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আশিষ রায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। হত্যায় তার সম্পৃক্ততা ও অন্যান্য ডিটেলস আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব, পরে বিস্তারিত জানানো যাবে। তবে বাড়িটা কার তাৎক্ষণিক র্যাব জানাতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ২৪ বছর আগের চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী পলাতক ছিলেন। তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে তার গুলশানের ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে র্যাব। পরে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব হেফাজত নেওয়া হয়।
১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানীর আবেদীন টাওয়ারে ক্লাব ট্রাম্পসের নিচে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। গোয়েন্দা পুলিশ ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আসামিরা হলেন এভিয়েশন ও বিমান টিকেটিং ব্যবসায়ী আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী, ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজ, তারেক সাঈদ মামুন, আদনান সিদ্দীকি, সেলিম খান, হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন ওরফে বস লিটন, ফারুক আব্বাসী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন। আসামিদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন কারাগারে।
খখ/মো মি


