খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চাঁদাবাজি, পুলিশের উপর হামলা ও অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের আলোচিত চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালু ভরাটের কাজ করছিল। গতকাল (বুধবার) একটি ট্রাক মালামাল নিয়ে কাজ করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গেলে ফেরার পথে তাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে চেয়ারম্যান লিয়াকতের অনুসারীরা। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি পুলিশ মীমাংসা করতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হয় তারা।
একপর্যায়ে পুলিশের ওপর দফায় দফায় ইটপাটকেল নিক্ষেপও করে তারা। এতে পুলিশের ৪ সদস্য আহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের আনোয়ারা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রেজিং করার জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন লেয়াকত। চাঁদা না দেয়ায় বুধবার ওই ঠিকাদারের লোকজন মালামাল নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাবার সময় গাড়িতে হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে তাদের ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে লেয়াকতের অনুসারীরা। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।’
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালু ভরাটের কাজ পাওয়া একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজে বাধা দেন। যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের চালকসহ শ্রমিকদের মারধর করেন লিয়াকতের অনুসারীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশের উপর হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকা থেকে লিয়াকতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাঁশখালী থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পুলিশের উপর হামলা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। লিয়াকত আলীকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো আদেশ দিয়েছেন।
খখ/মো মি


