“সরকারকে হেয় করতে প্রথম আলো আর বিএনপি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে”-ওবায়দুল কাদের

thai foods

খাসখবর রাজনীতি ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারকে হেয় করতে প্রথম আলো ও বিএনপি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রথম আলো আর বিএনপি একজন আরেকজনের পরিপূরক।

thai foods

শনিবার (১ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতা দিবসের দিনে এ ধরনের সাংবাদিকতা ফৌজদারি অপরাধ। প্রথম আলো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয়। মানুষ ভালোবেসে টানা তিন মেয়াদে এই সরকারকে ক্ষমতায় রেখেছে। কিন্তু প্রথম আলো জনপ্রিয় সরকারকে হেয় করার জন্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ছোট করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সংবাদটি যে ভাষায় একটি দিনমজুরের উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছে, সেটি কি সাধারণ দিনমজুরের বক্তব্য, নাকি প্রথম আলোর দেওয়া বয়ান- সেটি ভাববার সময় এসেছে। ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশনার দায় পত্রিকাটির সম্পাদক কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। অথচ ক্ষমা না চেয়ে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে পত্রিকাটি। তরুণ প্রজন্মকে উসকানি দেওয়ার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই আমরা দেখেছি- স্বাধীনতা দিবসের দিন সেদেশের গণমাধ্যম অনুপ্রেরণামূলক বাণী দিয়ে উৎসাহ করে। আর প্রথম আলো তাদের প্রভুদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য জাতির সামনে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে, তরুণ প্রজন্মকে হতাশা ও উস্কানি দেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

রিপোর্টার্স উইথআউট বর্ডারের বিবৃতি নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই প্রতিষ্ঠান বলছে- সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্যই সরকার এ ধরনের মামলা করেছে প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে। আমি প্রথমে বলতে চাই সরকার কিন্তু এখানে মামলা করেনি। মামলা সাধারণ একজন নাগরিকও করতে পারে। সরকার মামলা করেছে এটা সর্বাগ্রে মিথ্যা।

তিনি বলেন, প্রথম আলো আর বিএনপি সাপ্লিমেন্ট করে একে অপরকে। টার্গেট শেখ হাসিনা, টার্গেট সরকার, টার্গেট জনগণ। টার্গেট আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, তারা (বিএনপি) নিজেরা নির্বাচনে যাবে না, আর নির্বাচন করতেও দেবে না। আমরা দেখব কারা এসে বাধা দেয়। আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের হাতিয়ার মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের সহায়তা চাইতে পারে কিন্তু জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কোনো আইনে পড়ে না। বিএনপির নালিশের রাজনীতির ধারা সেটা তারা অব্যাহত রেখেই যাবে।

তারেক জিয়ার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, নেতা ছাড়া আন্দোলন হয় না, নেতা ছাড়া নির্বাচন হয় না।

তিনি বলেন, ব্লুমবার্গের মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মাধ্যম বলছে শেখ হাসিনা দক্ষ নেতৃত্বে যা করেছেন, আবারো ক্ষমতায় আসবেন।
বাইরের এসব সংস্থার প্রশংসা সরকারের অর্জন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অর্জন বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ইফতার পার্টি বন্ধ করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ আয়োজন বাতিল করা হয়েছে জনগণের স্বার্থে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করতে।

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সায়েম খান প্রমুখ।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খখ/মো মি

আগে“প্রথম আলোর বিতর্কিত প্রতিবেদনটি মহান স্বাধীনতাকে হেয় করার শামিল”-এডিটরস গিল্ড
পরেসাকিব-লিটনকে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা