খাসখবর মহামারী বিশ্ব ডেস্ক : ভারতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না এ মহামারী। দিন দিন বেড়েই চলেছে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার।
দেড় লাখ পার হয়ে দু’লাখের দিকে এগোচ্ছে দেশের দৈনিক করোনা সংক্রমণ। রবিবার প্রথমবার দেড় লাখের গণ্ডি পেরিয়েছিল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা।
সোমবার হয়েছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। মঙ্গলবার তা কমে হয় ১ লাখ ৬১ হাজার। বুধবার(১৪ এপ্রিল) দেশে নতুন করে আক্রান্ত হলেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭২ জন। এই সংখ্যা একদিনে সর্বোচ্চ। ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮২৫ জন।
করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বিপদজনক দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৭ জনের।
গত বছর অক্টোবরের শুরু দিকে দেশে দৈনিক মৃত্যু ১ হাজারের আশপাশে ছিল। তারপর তা কমতে কমতে ১০০-র নীচেও নেমেছিল। গত কয়েক সপ্তাহে ধারাবাহিক ভাবে বেড়ে আবার ১ হাজার ছাড়ালো। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাস মোট প্রাণ কেড়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৮৫ জনের।
মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৮১ জনের। দৈনিক মৃত্যু আচমকা বেড়েছে ছত্তীসগঢ়েও। সেখানকার সরকারি হা। দিল্লিতেও বুধবার দৈনিক মৃত্যু ৮১। কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাতেও রোজ উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মৃত্যু হচ্ছে।
লাগামহীন সংক্রমণের জেরে দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত রোগী বেড়েছে ১ লাখেরও বেশি। এখন ভারতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৪ জন।
রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলির উপর চাপ বাড়ছে । এই সংখ্যায় রোজ রোগী বাড়তে থাকলে কী ভাবে তাঁদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে তা নিয়েও চিন্তায় রয়়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে কোভিড রোগীদের জন্য শয্যা বাড়াচ্ছে। কিন্তু এখন যে সংখ্যক করোনা রোগী রয়েছে তা আগে কখনও ছিল না।
ভারতে করোনা সংক্রমণের এই গতি কমাতে রাত্রিকালীন কার্ফু জারি করেছে বেশ কয়েকটি রাজ্য। পর্যটকদের আগমনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে।
মহারাষ্ট্রে বুধবার(১৪এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ‘জনতা কার্ফু’। চলবে ১ মে পর্যন্ত। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সেই সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কথা মঙ্গলবার রাতে ঘোষণা করেছেন।
দেশের দৈনিক সংক্রমণের এক তৃতীয়াংশই হচ্ছে মহারাষ্ট্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজার ২১২ জন। উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতিও লাগামহীন রয়়েছে গত কয়েক দিনে। সে রাজ্যে কুম্ভ মেলায় ভিড় ইতিমধ্যেই ‘সুপার স্প্রেডার’ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সে রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার জন। ছত্তীসগঢ়ে তা ১৫ হাজার ছাড়াচ্ছে। দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়ালো। যা গোটা অতিমারি পর্বে সর্বোচ্চ।
কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশে আক্রান্ত সাড়ে ৮ হাজারে বেশি, কেরালায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি, তামিলনাড়ু এবং গুজরাটে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি।
পশ্চিমবঙ্গেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে ৪ হাজার ৮১৭ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজস্থানেও আক্রান্ত ৫ হাজারের বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশে, বিহার, পঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশাতেও আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
যদিও দেশটিতে টিকাদান কর্মসূচি চলছে পুরোদমে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৩ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে । এপর্যন্ত মোট ১১ কোটি ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৮ জন করোনা টিকা দেয়া হয়েছে।
খখ/মো মি


