খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কৌশলে প্রাইভেটকারে তুলে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে মিরন ও জমির নামের দুই প্রাইভেটকার চালক। ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দ্রুততম সময়ে এই দুইজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে হালিশহর থানা পুলিশ।
সোমবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাতে হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুইজন হলেন, মো. মিরন প্রকাশ মিরু (৩৬) এবং মো. জমির (৩২)। তারা দুজনেই পেশায় ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চালক। গ্রেপ্তার দুইজনই ভিকটিমের পরিবারের পূর্বপরিচিত। একজন সম্পর্কে ভিকটিমের দুলাভাইয়ের বন্ধু।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইফতার করে বাসা থেকে বেরিয়েছিলো ওই কিশোরী। এসময় মিরন এবং জমির তাকে ফুঁসলিয়ে ছোটপুল পুরাতন রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের স্মার্ট ম্যান সেলুনের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার পার্কিং করে রাখা ছিল। সেই প্রাইভেটকারে তুলে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক দলবদ্ধ ধর্ষণ করে দুই আসামি। এ ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কায়সার হামিদ বলেন, গত রোববার সন্ধ্যায় ছোটপুল এলাকা থেকে পাশবিক নির্যাতনের শিকার এই কিশোরীকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে নেয় মিরণ ও জমির। তাকে বলা হয়েছিল, দুলাভাইসহ বেড়াতে যাবে। সরল বিশ্বাসে কিশোরি গাড়িতে উঠলেও সেখানে তার দুলাভাই ছিল না। দুজন গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে এবং পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাউকে কিছু না জানানোর হুমকি দিয়ে হালিশহরে একটি স্থানে নামিয়ে দেয়। বাসায় গিয়ে ওই কিশোরী প্রথমে কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু এত রাত পর্যন্ত কোথায় ছিল সেটি জানার জন্য তার মায়ের জোরাজুরিতে একপর্যায়ে সে ঘটনার কথা জানায়।’
ওসি কায়সার হামিদ আরও বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করলে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযানে নামি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা সক্ষম হই। গ্রেপ্তার দুইজনেই ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চালক। এরমধ্যে একজন কিশোরীদের প্রতিবেশী এবং অপরজনও আগে একই এলাকায় থাকতো। একই এলাকায় থাকার সুবাদে আসামিদের সাথে পূর্ব পরিচয় ছিল ভিকটিমের পরিবারের। গ্রেপ্তার একজন ভিকটিমের বড় বোনের স্বামীর বন্ধু বলেও জানতে পেরেছি।’
খখ/মো মি


