খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজানে ইফতারের পর বাজারের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল মজিদ (৫৫) নামে এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল মজিদ ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল মুনাফের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘটক এবং স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতার শেষ করে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে অলিমিয়াহাট বাজারে একটি ফলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আব্দুল মজিদ। এ সময় তিন-চার জনের একটি সশস্ত্র দুর্বৃত্তের দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, তাঁর চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুল মজিদকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পূর্বগুজরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীপ্তেশ রায় জানান, ইফতারের পর বাজারে কয়েকজনের সঙ্গে আব্দুল মজিদের তর্কাতর্কি হয়েছিল। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার দিকে মজিদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা এসে বাজারের একটি মুদি দোকানে বসা অবস্থায় মজিদকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মজিদ মারা যান।
ওসি আরও জানান, নিহত মজিদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, গুলি করা দুর্বৃত্তরা ওই এলাকারই লোক। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, নিহত ব্যক্তি পেশায় একজন ঘটক ছিলেন। একটি বিষয় নিয়ে গত দুদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় একই ইস্যুতে পুনরায় তর্কাতর্কির জেরে তাকে গুলি করা হয়। পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম পেয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
নিহত মজিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, এর আগেও তাঁর স্বামীর ওপর হামলা হয়েছিল। তখন তিনি বেঁচে যান। এবার তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ভাই মো. আনোয়ার জানান, আব্দুল মজিদ সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে এলাকাছাড়া ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় ফিরে অলিমিয়াহাট বাজারের ইজারা নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক–সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে।
খখ/মো মি


