খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর ঘর থেকে হালিমা আক্তার নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির গৃহকর্তা, তার স্ত্রী ও ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা এলাকার প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হালিমা আক্তার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওই এলাকার নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে হালিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকা ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায়।
খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শিশুটির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের ঘরের একটি আলনার নিচ থেকে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আবদুল আউয়াল, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও ছেলে রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
নিহত শিশুর মা রাশেদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মেরে তাদের ঘরের আলনার নিচে লুকিয়ে রেখেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। আমার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। তার পুরো শরীর কালো হয়ে গেছে।’
পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা নাসির উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল আওয়ালের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই ঘরের গৃহকর্তাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খখ/মো মি


