খাসখবর জাতীয় ডেস্ক➤ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন কারখানাটির মালিক সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহেনশাহ আজাদ।
আজ শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে আবুল হাশেমকে তার গুলশানের বাসা থেকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে রূপগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়। এতে আসামি করা হয়, সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেম, হাসীব বিন হাসেন, তারেক ইব্রাহীম, তাওসীব ইব্রাহীম, তানজীম ইব্রাহীম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ আজাদ, উপ মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ, সিভিল ইঞ্জনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনকে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ জনকে আটকের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার জন্য কারও ন্যূনতম অবহেলা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণে ন্যূনতম ক্রুটি এবং শ্রমিক পরিচালনায় কোনো গাফিলতি থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় দায়ী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার পর রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। আগুনে এ পর্যন্ত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস বলেছে, ভবন নির্মাণে ত্রুটি রয়েছে। ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। আমরা মনে করি এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ঘটনায় সরাসরি হত্যা মামলা দায়ের করেছি। ইতোমধ্যে মালিক পক্ষ ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাকিদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সিও, ডিরেক্টর, কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা সিকিউরিটি ইনচার্জ। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ থাকলে তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এসপি জায়েদুল আলম বলেন, মরদেহগুলো থেকে ডিএনএর স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ যারা আছেন তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি ও সন্তানের সবার ডিএনএ নমুনা কালেক্ট করেছি। শিগগিরই আমরা নমুনা পরীক্ষা করে মরদেহগুলো হস্তান্তর করতে পারবো।
সেজান জুস কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার আটজন হলেন- সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম (৭০), তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম ওরফে সজীব (৩৯), তারেক ইব্রাহীম (৩৫), তাওসীব ইব্রাহীম (৩৩), তানজীম ইব্রাহীম (২১), শাহান শান আজাদ (৪৩), মামুনুর রশিদ (৫৩), মো. সালাউদ্দিন (৩০)।
খখ/মো মি


