চট্টগ্রামের সেই আলোচিত যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমী গ্রেফতার!

তিন বছর ধরে কুলসুমীর হয়ে জেল খেটেছিলেন মিনু আক্তার
thai foods

খাসখবর প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম মহানগর ডেস্ক➤ অবশেষে সেই যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

thai foods

চট্টগ্রামের গার্মেন্টসকর্মী কোহিনুর আক্তার হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমীর হয়ে জেল খেটে ছিলেন মিনু আক্তার।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ভোরে নগরীর পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে কুলসুমীকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত ১৬ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান মিনু আক্তার। কিন্তু জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তার স্থায়ী মুক্তি মেলেনি। গত ২৮ জুন রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় মিনু আক্তার মারা যান।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমী লোহাগাড়া উপজেলার গৌরস্থান মাঝের পাড়া আহাম্মদ মিয়ার বাড়ির আনু মিয়ার মেয়ে। তার বর্তমান ঠিকানা কোতোয়ালী থানাধীন রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে পতেঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোহিনুর আক্তার নামে এক গৃহকর্মী হত্যা মামলার আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, গত তিন বছর ধরে কুলসুমীর হয়ে জেল খেটেছিলেন মিনু নামে আরেক নারী। তবে ১৬ জুন আইনি প্রক্রিয়া শেষে মিনু আক্তার কারাগার থেকে মুক্ত হন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জে একটি বাসায় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টসকর্মী কোহিনুর আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কোহিনুর আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন গার্মেন্টসকর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এর পর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়।

মামলায় পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে কোহিনুরকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দিলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এর মধ্যে এক বছর তিন মাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পান কুলসুম।

মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ওই হত্যা মামলায় আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

ওই সাজার পরোয়ানামূলে ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলি হয়ে মিনু কারাগারে যান। কুলসুমীর পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটেন মিনু। বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন। এরপর গত ২২ মার্চ অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে মিনুকে হাজির করা হলে তার জামিন হয়। জামিনের মুক্ত হওয়ার পর গত ২৮ জুন ভোররাতে বায়েজিদ সংযোগ সড়কে দুর্ঘটনায় মিনু আক্তার মারা যান।

খখ/মো মি

আগেকরোনার টিকা কোভিশিল্ড ৯৮ শতাংশ মৃত্যু রুখতে কার্যকর
পরেকরোনায় ১দিনে ২৩৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫২৭১