খাসখবর মহামারী ডেস্ক➤ একদিনের ব্যবধানে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৬ হাজার ৭৯৪ জনে।
বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজার ৪৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২ হাজার ৫৮৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৯০ জনে।
এর আগেরদিন বুধবার দেশে করোনায় ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২ হাজার ৪৯৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল। সেই তুলনায় আজ করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে। তবে করোনা শনাক্তের হার কমেছে। বুধবার করোনা শনাক্তের হার ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৬১৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২১ জন।
সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮০০টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৪০টি, জিন এক্সপার্ট ৫৫টি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ৬০৫টি। এসব ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৯৫টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৯ হাজার ৫৪১টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯১ লাখ ৭৫ হাজার ৯১২টি।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার আট দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৬১৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ২১১ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ৫৮ জনের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুইজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ৫৮ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে আটজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছেন।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৬৫২ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ৪৫৪ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন তিন লাখ ৭২ হাজার ২৩৪ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন তিন লাখ ২১ হাজার ৪৬১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৫০ হাজার ৭৩৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।
খখ/মো মি


