খাসখবর গণমাধ্যম ডেস্ক: গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত প্রথম আলোর বিতর্কিত প্রতিবেদনটি মহান স্বাধীনতাকে হেয় করার শামিল বলে মন্তব্য করেছে এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় সংগঠনের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু ও সাধারণ সম্পাদক ইনাম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করা হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এটি সাংবাদিকতার নামে এজেন্ডা বাস্তবায়নের ধারাবাহিক চেষ্টার অংশ। বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিকতা নয়, অপসাংবাদিকতা। এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনও প্রতিবেদনের ব্যাপারে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে মামলা দায়েরের আগে আমরা প্রেস কাউন্সিলের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলো অনলাইনের একটি প্রতিবেদন ফেসবুকে প্রকাশের সময় জাকির হোসেন নামে এক দিনমজুরের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি ‘কার্ড’ তৈরি করা হয়। বলা হয়, ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কি করুম? বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব।’
সেখানে উদ্ধৃতিদাতা হিসেবে দিনমজুর জাকির হোসেনের নাম থাকলেও, ছবি দেয়া হয় একটি শিশুর। ১৭ মিনিটের মাথায় নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটে প্রথম আলো। খবরটি সংশোধন করে তারা। কিন্তু ততক্ষণে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্বাধীনতা দিবসকে কটাক্ষ করে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত উদ্দেশ্যমূলক নেতিবাচক খবরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ফেসবুকে প্রথম আলোর সমালোচনা করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ লেখেন, স্বাধীনতা দিবসকে কটাক্ষ করার মতো প্রথম আলোর এই ‘মিস্টেক’ এর দায় কে নেবেন? কোনও পত্রিকাই ধর্মগ্রন্থ নয়, সত্য। ভুলভ্রান্তি থাকে। কিন্তু ‘স্বাধীনতা দিবস’কে উপহাস? তাও আবার অসত্য তথ্য ও ছবিযুক্ত করে?
ছেলেটার নাম, সবুজ, জাকির নয়। ক্লাস ওয়ানের ছাত্র, দিনমজুর নন। সৌখিন ফুল বিক্রোতা। এ্যটাচ বাথরুমের বাসাও আছে তাদের। ঘরে দামি খাট। মাত্র ১০টাকা গুঁজে দিয়ে তার ছবি তুলে বানানো হল স্টোরি। মুহূর্তে ভাইরাল! খুব ব্যাথা পেয়েছি, প্রথম আলোর মতো ওয়েল এডিটেড কাগজের এমন জঘন্য ক্যাপশন স্টোরিতে।
আতাউর রহমান আজাদ নামে একজন মন্তব্য করেন, বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দামের সাথে স্বাধীনতা দিবসের কি সম্পর্ক !!!
শিমুল খান নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা সব সময়ই একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে।
এরপরই একটি বেসরকারি টেলিভিশন বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনটিতে যা পরিবেশন করা হয়েছে, সেটি ভুল। শিশু জাকির হোসেন আসলে দিনমজুর নয়, একটি স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর তার নাম সবুজ। টাকার বিনিময়ে তার ছবি তোলা হয়েছে।
বহুল আলোচিত ওই ছবি প্রকাশের দুদিন পর বুধবার (২৯ মার্চ) রাতে শামসের বিরুদ্ধে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মামলা করেন যুবলীগের এক নেতা। রমনা থানায় একই অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। এ মামলাতেও প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামস ও পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমানসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।
খখ/মো মি


